
বাঙালির সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখে সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত যশোর হয়ে ওঠে উৎসবের নগরী। নানান বয়সী মানুষের ঢল নামে শহরময় বিভিন্ন স্থানের অনুষ্ঠানস্থলে। আর এসকল অনুষ্ঠানকে নিখুঁত ও স্বার্থক করে তুলতে চেষ্টার কমতি বা খামতি থাকে না সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক সব মিলিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে তিলোত্তমা যশোর। এই একটি উৎসব যে উৎসবে ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি থাকে না। যে উৎসবের আনন্দে গোটা জাতি মিলিত হন যে যার মতো করে। আর এ উদযাপনকে ঘিরে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে মাসের পর মাস ধরে চলে নানান ধরনের প্রস্তুতি।
সপ্তাহ দেড়েক পরেই আসতে চলেছে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩, বদলে যাচ্ছে বাংলা ক্যালেন্ডারের পাতা। মঙ্গল শোভাযাত্রার সূতিকাগার যশোরেও সারাদেশের মতো চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি। যশোরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরবিতানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখী আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সার্বিক সুন্দর উপস্থাপনার জন্য সুরবিতানের শিল্পীরা প্রতিদিন নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন। ২৪ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে পহেলা বৈশাখী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্ব। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আর শুক্রবার দুই বেলা করে চলছে নাচ, গান ও আবৃত্তির মহড়া। সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মহড়া চলছে। সুরবিতানের ৩০০শিল্পী অংশ নেবেন বৈশাখী অনুষ্ঠানে। পহেলা বৈশাখে সকাল সাড়ে ৬টায় টাউন হল মাঠের শতাব্দী বটমূলে আয়োজিত হবে বৈশাখী অনুষ্ঠান, চলবে সকাল ৯টা পর্যন্ত। এরপর নিজ আঙিনায় চলবে অতিথি আপ্যায়ন। দাওয়াতপত্র থেকে শুরু করে পোশাক, খাবারের তালিকা সবখানে থাকবে ঐতিহ্যের মিশেল। দাওয়াতপত্রে ১২মাসের তারিখ সহকারে অতিথিদের ক্যালেন্ডারে জানানো হবে বৈশাখী শুভেচ্ছা। খাবারের তালিকায় থাকবে লুচি, ডাল আর বুন্দিয়া। ঐতিহ্যবাহী এসকল খাবারেই আপ্যায়িত হবেন অতিথিরা। পোশাকে শিশুদের জন্য থাকবে লাল রঙের পাঞ্জাবি ও ফ্রক। বড়দের পোশাকে পুরুষদের জন্য নীল পাঞ্জাবী আর নারী ও মেয়েদের জন্য সাদার জমিনে নানার রঙের মিশেলে তৈরি হচ্ছে জমকালো নকশার শাড়ি। এসকল পোশাকে বৈশাখী সাজে সাজবেন সুরবিতানের শিল্পীরা।
এ বিষয়ে সুরবিতানের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, বাণী প্রধান গান থাকবে আমাদের বৈশাখী অনুষ্ঠান পরিবেশনায়, আরও থাকবে পঞ্চকবির গান। এবারে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩, তাই এ উপলক্ষে থাকবে ৩৩টি গান। এতে সলিল চৌধুরীর গান ও দেশের গান থাকছে। আরও থাকবে হাওয়াইন গিটার পরিবেশনা। আমাদের বৈশাখী প্রতিপাদ্য ‘সুন্দর হও’। মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যুদ্ধ যা মানবতা ও পৃথিবী ধ্বংস করছে। মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। আমরা শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রগতির পৃথিবী চাই, যেখানে অসুন্দর কিছু থাকবে না।
মন্তব্য করুন