
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদের ব্যাপারে আশ^স্ত করা হলেও হুজুগ থামছে না। শনিবারও সঙ্কটের ‘হুজুগে’ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার মালিকরা ট্যাংকি ফুল করার চেষ্টা করছেন। ফলে যশোর জেলাজুড়ে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে। এই অজুহাতে কিছু পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে। আবার কোন কোন পাম্প একশ’ টাকার বেশি পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করছে না বলে অভিযোগ করছেন চালকরা। এরই মধ্যে আজ থেকে রেশনিং হারে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এদিকে, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত চারদিন ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক পাম্পে স্বাভাবিক সরবরাহ দ্রæত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চাহিদা প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা। এই কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। কবে নাগাদ এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই।
শনিবার ঢাকার রোডের মেসার্স মনিরুদ্দিন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোটরসাইকেল পেট্রোল নিতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তাদেরকে পাম্পের কর্মচারী সিরিয়াল অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ট্যাংকিতে পেট্রোল ভরে দিচ্ছেন। পেট্রোল নিতে আসা রবিউল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে ১ হাজার টাকার পেট্রোল ভরেছি। যদি পেট্রোলে দাম বেড়ে যায় বা সংকট সৃষ্টি হয় এই আশঙ্কায় বেশি করে কিনলাম। একই কথা বলেন রানা হামিদ ও মিজান মিয়া। তারা পেট্রোলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় মোটরসাইকেল পেট্রোল ভরেছে বলে জানান।
পাম্পের কর্মচারী আখতারুজ্জামান বলেন, শুক্রবার ও শনিবার কোম্পানি থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল দিতে আসে না। এগুলো দিতে আসে রোববার। তবে দেশে পেট্রোল বা অকটেন সংকট হবে। একটু দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। বাইরের দেশ থেকে আসে ডিজেল। যুদ্ধ চলতে থাকলে ডিজেলের সংকট হবে। দাম বাড়া বা সংকেটর আশঙ্কায় পেট্রোল কিনতে পাম্পে ভিড় হচ্ছে।
একই অবস্থা ছিল আরএন রোডের যাত্রীক পাম্পে। সেখানে মোটরসাইকেলে তেল ভরতে আসা মানুষের লাইন পড়ে যায় রাস্তা পর্যন্ত। পাম্পের কর্মচারীরা মোটরসাইকেল পেট্রোল ভরতে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। একই অবস্থা গাড়িখানার তোফাজ্জল পেট্রোল পাম্পে।
পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় উপশহর শিশু হাসপাতালের পূর্বপাশের মেসার্স প্রান্তিক পেট্রোল পাম্প বন্ধ ছিল। পাম্পের কর্মচারী নিরব জানান, কোম্পানী থেকে রোববার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল দিয়ে যাওয়ার পর পাম্প খোলা হবে। তবে শহরের বাইরের পেট্রোল পাম্পগুলো ছিল ফাঁকা। সদরের হামিদপুরের মেসার্স সুলতান পেট্রোলিয়াম পাম্প ও ক্যান্টনমেন্ট, যশোর-মাগুরা সড়কের পাম্পগুলোতে তেমন ভিড় ছিল না।
যশোর শহরের মণিহার এলাকার যাত্রীক পেট্রোলিয়াম সার্ভিস’র সহকারী সুপারভাইজার পলাশ জানান, গত কয়েকদিন থেকে পাম্পটিতে প্রচুর ভিড়। তাদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদের সংখ্যাই বেশি। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শংকা থেকে অনেকে বেশি করে তেল কিনছেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এই পাম্পটির সামনে মোটরসাইকেলের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রত্যেকেই ট্যাংকি পুরো ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে ৫ লিটারের ক্যানে করে অতিরিক্ত পেট্রোল নিচ্ছেন। অনেকে হাজির হন ৪০ লিটারের ড্রাম নিয়েও।
জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি যশোর জেলা সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, ¯্রফে প্যানিক থেকে মানুষের মধ্যে তেল মজুদ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। দেখা গেছে যে বাইক চালক হাফ বা এক লিটার তেল কিনতেন, তিনিও বাইকের ট্যাংকি ফুল করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ক্যান বা ড্রাম নিয়েও পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন।
মন্তব্য করুন