
হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার-ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। গত ২ মার্চ উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। আদেশটি বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক, সচিব, পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। বুধবার হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দালালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে সরকারি ১০ টাকার টিকিট ৫০ টাকায় বিক্রির সময় মেহেদী হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়েতের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে মৌখিক মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার-ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং জরুরি বিভাগের কাছাকাছি দৃশ্যমান স্থানে তা রাখতে হবে। বিনামূল্যে প্রদানের লিখিত নির্দেশনা টাঙাতে হবে। নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরিহিত সেবাকর্মী বা ওয়ার্ডবয় হুইলচেয়ার-ট্রলি বহন করবেন। বহিরাগত কেউ টাকার বিনিময়ে এ সেবা দিতে পারবে না। দালালমুক্ত হাসপাতাল গড়ে তুলতে পুলিশের সহায়তায় অভিযান ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি কোনো সেবার জন্য বিধিবহির্ভূত অর্থ আদায় বা বখশিশ চাওয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী সেবা নেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় জনবল সংকট থাকায় স্বেচ্ছাসেবী নামধারী একদল দালাল হাসপাতালজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন নির্দেশনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তারা আশা করছেন, এতে হাসপাতালের নৈরাজ্য কমবে।
বুধবারও দিনব্যাপী হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। এদিন করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে থেকে মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার আকিব হোসেন নামের এক রোগী স্কিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে সরকারি ১০ টাকার ব্ল্যাঙ্ক টিকিট ৫০ টাকায় কিনতে প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা হয়। পরে তার পকেট থেকে পাঁচটি ব্ল্যাঙ্ক টিকিট উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হোসাইন সাফায়েত জানান, ইতোমধ্যে সব বিভাগে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো দালাল হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না এবং হুইলচেয়ার-ট্রলি ঠেলে কেউ টাকা চাইতে পারবে না। কোনো কর্মচারির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হাসপাতালে হুইলচেয়ার-ট্রলির কিছু সংকট রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন