মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
‘প্রতারক জনি ও পিয়ালীর’ ঋণ প্রদানের নামে প্রতারণা ফাঁদ

৪০ লক্ষাধিক টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় ফেঁসেছেন বকচর এলাকার ছয় হতদরিদ্র নারী

কাগজ সংবাদ
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৪ পিএম
ছবি । ইন্টারনেট

যশোরের বকচর জোড়া মন্দির এলাকার ছয় হতদরিদ্র নারীকে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ৪০ লক্ষাধিক টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় ফাঁসিয়েছেন সেই ‘প্রতারক জনি ও তার সহযোগী পিয়ালি’। এনজিও ঋণ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের ফাঁকা চেক নিয়ে দরিদ্র এই নারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন এই প্রতারণার জাল থেকে বাঁচতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় ওই নারীরা। ‘প্রতারক’ রফিকুল ইসলাম জনি যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের মো. আবু সাঈদ হাসানের ছেলে। তার সহযোগী জাহানারা বেগম পিয়ালী যশোর সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। পিয়ালী বকচর কবরস্থান রোড এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে এই নারীদের প্রতারণার জালে জড়িয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। জনিকে তিনি স্বামী পরিচয় দিতেন এবং ওই বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। জনি এর আগে সদর উপজেলার শানতলা এবং পরে বকচর জোড়ামন্দির এলাকায় চাকরি ও ঋণের কথা বলে ৯০ জন নারীর কাছ থেকে দশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দেন। ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের অভিযোগ, যশোরের বকচর জোড়া মন্দির ও কবরস্থান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন জাহানারা বেগম পিয়ালী। রফিকুল ইসলাম জনিকে তার স্বামী বলে পরিচয় দিতেন; এবং জনি বিদেশে আছে উল্লেখ করতেন। পিয়ালীর ভাড়া বাড়িতেই টিএমএসএস নামে একটি এনজিও’র কর্মীরা ওঠাবসা করতেন। সেই সূত্র ধরে স্থানীয়দের মাঝে নতুন এনজিও খোলা ও ঋণ দেওয়ার কথা বলেন পিয়ালী। এই ঋণের জন্য বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকার রেশমা সুলতানা, রাজিয়া বেগম, মনিরা বেগম, নার্গিস আক্তার লিপি ও আফরোজা আক্তার শিল্পীর কাছ থেকে ব্যাংকের ফাঁকা চেক গ্রহণ করেন। এরপর তাদের ঋণ না দিলেও ফাঁকা চেকে রেশমা সুলতানার পাঁচ লাখ, রাজিয়া বেগমের ৮ লাখ, মনিরা বেগমের ৭ লাখ, আফরোজা আক্তার শিল্পীর ১০ লাখ এবং নার্গিস আক্তার লিপির ৪ লাখ টাকা বসিয়ে চেক ডিজঅনার করান। অপরদিকে, প্রতারক জনি আরেকটি ফাঁকা চেকে রেশমা সুলতানার নামে পাঁচ লাখ এবং সুমাইয়া খাতুন নামে আরেক নারীর নামে আড়াই লাখ টাকার চেক ডিজঅনার করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। সবমিলিয়ে এই ছয় নারীর নামে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার করিয়ে মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন দুজন। মুড়লি জোড়ামন্দির এলাকার কামরুজ্জামানের স্ত্রী রেশমা সুলতানা জানান, তার বাড়িতে চানাচুর কারখানা স্থাপনের কথা বলে নিচতলা ভাড়া নেন রফিকুল ইসলাম রাজ। ‘গ্রুপ আর এল কোং’ নামে এই চানাচুর ও প্যাকেজিং ফ্যাক্টরির অংশীদার করার কথা বলে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নেন। এছাড়া তার ভাড়াটিয়া সুমাইয়া খাতুনের ঋণের জন্য গ্যারান্টার হিসেবে তার একটি ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেন। এখন ওই চেকের পাতা ব্যবহার করে রাজ তার নামে পাঁচ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। আর সুমাইয়ার চেকের পাতা নিয়ে তার নামে আড়াই লাখ টাকার চেক ডিজঅনার নোটিশ দিয়েছেন। এর আগে আরেকটি চেকে ৫ লাখ টাকা ডিজঅনার করে মামলা করেছেন জাহানারা বেগম পিয়ালী। আরেকটি চেকে আট লাখ টাকার মামলার শিকার রাজিয়া বেগম জানান, স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ফাঁকা চেক নিয়েছিলেন পিয়ালী। এখন সেই চেকে ৮ লাখ টাকার মামলা করেছেন। একই ঘটনার শিকার বিভিন্ন মেসে রান্নার কাজ করা হতদরিদ্র মনিরা বেগম। তার নামে মামলা হয়েছে ৭ লাখ টাকার। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এনজিও ঋণের কথা বলে ফাঁকা চেক এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০-২০ হাজার হাতিয়ে নিয়েছেন পিয়ালী ও রাজ। এরপর উল্টো চেক ডিজঅনার মামলা করেছেন। ওই চেককে পুঁজি করে তারা অর্থবাণিজ্যের চেষ্টা করছেন। এদিকে, একইসাথে প্রতারণার চক্র তৈরি করলেও এখন কেউ কাউকে চেনেন বলে দাবি করেছেন রফিকুল ইসলাম রাজ ও জাহানারা বেগম পিয়ালী। মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহানারা বেগম পিয়ালী দাবি করেন, ওই নারীদের প্রত্যেকেই তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চেক দিয়েছেন। ধার পরিশোধ না করায় তিনি চেক ডিজঅনার মামলা করেছেন। পিয়ালী দাবি করেন, ‘ওরা কি পাগল নাকি যে টাকা না নিয়ে ফাঁকা চেক দেবে?’ আর রফিকুল ইসলাম রাজকে তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন। এরপর তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজী হননি। আর রফিকুল ইসলাম রাজ দাবি করেন, রেশমা সুলতানা ও সুমাইয়া খাতুন তার কাছ থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা ধার নিয়েছে। ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিনি চেক ডিজঅনার মামলা করেছেন। রাজও দাবি করেন, তিনি জাহানার বেগম পিয়ালীকে চেনেন না। রেশমা সুলতানার কাছে পিয়া (পিয়ালী) নামে একজনের কথা শুনেছিলেন, তার স্বামীর নাম রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সেই রফিকুল তিনি নন। চেক ডিজঅনার মামলার প্রতারণার ফাঁদে পড়া নারীদের আইনজীবী অ্যাড. জুলফিকার আলী জুলু জানান, দরিদ্র এই নারীদের মামলায় তিনি আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ঋণের কথা বললেও এই নারীরা আসলে কোনো টাকা পাননি। উপরন্তু ফাঁকা চেক নিয়ে তাদেরকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রতারক রফিকুল ইসলাম রাজের বিরুদ্ধে এর আগে গত ২৮ অক্টোবর শানতলা এলাকায় ৭৫ নারীর সঙ্গে প্রতারণা এবং গত ১৭ নভেম্বর মুড়লি এলাকা থেকে আরও ১৫ নারীর সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গ্রামের কাগজে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X