
অভিনেত্রী ফারিন খান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন নিজের জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। শুক্রবার দুপুরে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, গভীর রাতে জামালপুর যাওয়ার পথে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে প্রবেশ করার পর তিনি সম্ভাব্য হামলা ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হতে পারতেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি বাধ্য হয়ে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে যান। ওয়াশরুমে ঢোকার কয়েক মিনিট পর হঠাৎ অনুভব করেন, তার পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
পেছনে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটি হাত তার গলার খুব কাছে চলে এসেছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ফারিন জানান, তার চিৎকার শুনে ড্রাইভার দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করা হলেও সে পালিয়ে যায়। পরে ড্রাইভার অভিনেত্রীকে জানান, তিনি আগেই লোকটিকে ওয়াশরুমের পেছনের দিকে যেতে দেখেছিলেন। তার হাতে ডিমের খোসা থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়নি।
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে ফারিন লেখেন, সময়মতো চিৎকার না করলে তাকে হত্যা করে লুটপাটের পাশাপাশি ধর্ষণের চেষ্টাও করা হতে পারত।
তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে নিজেকে সাহসী দেখানোর চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে তিনি ভয় ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন। এই ঘটনার পরদিন শুটিং ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গেও বিষয়টি শেয়ার করেন অভিনেত্রী।
স্ট্যাটাসে নারী নিরাপত্তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফারিন। তিনি বলেন, দেশের নারীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। পোশাকের ভিত্তিতে নারীদের বিচার করা এবং ধর্ষণের ঘটনায় কার্যকর বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেত্রীর এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার সাহসিকতার প্রশংসা করছেন এবং দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন