
ভারতের প্রখ্যাত বাউল সাধক ও সংগীতশিল্পী কানাই দাস আর নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বিশিষ্ট ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কানাই দাস। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে তিনি যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন এই বাউল সাধক।
ভারতীয় বাউল সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নাম ছিলেন কানাই দাস। সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী শৈশব থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে তিনি সংগীতের মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তার অন্তর্দৃষ্টি ও সুরের ভুবন তাকে পৌঁছে দেয় অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে।
গ্রামবাংলার মেঠোপথে একতারা হাতে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তার জীবনের অংশ। মেলা, আখড়া ও গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে তিনি পরিবেশন করতেন বাউল গান। তার কণ্ঠে “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” কিংবা “কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার” গানগুলো শ্রোতাদের গভীরভাবে স্পর্শ করত।
তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। এছাড়া প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত গ্রন্থ নাইন লাইভস-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন কানাই দাসকে।
মন্তব্য করুন