
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭২ ঘণ্টা পরও ৬০ জনের বেশি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও পুনরায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও এখনও কিছু শিক্ষার্থী তুলনামূলক গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকালের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেতে পারেন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, উপপ্রধান ও শিক্ষকরা হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে এসব তথ্য জানান।
হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, আমরা অনেক শিক্ষকই হাসপাতালে আছি। অসুস্থ সবার খোঁজ নিচ্ছি। ডাক্তাররা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। কিছু শিক্ষার্থীর অবস্থা খারাপ হলেও অনেকের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. মোসা. আফরোজা খাতুন বলেন, আমাদের হলের অনেক শিক্ষার্থী খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ঘটনায় আমরা হল প্রশাসন খুবই দুঃখিত এবং মর্মাহত। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং প্রায় দশজন শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আজও অনেকে ছাড়পত্র পাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছে। ছাড়পত্রের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগের প্রাদুর্ভাব যেন না বাড়ে, সেজন্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। হলের প্রতিটি স্থান জীবাণুনাশক দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও আমাদের অনেক কাজে সহায়তা করছে, এজন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। উপাচার্য মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আমরা দ্রুতই এ সংকটকাল অতিক্রম করবো। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ডাইনিংয়ে প্রায় ১৮৬ জন শিক্ষার্থী খাবার গ্রহণ করেন। পরদিন ভোর ৪টা থেকে একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার খোলার পর অসুস্থ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে সেখানে ভিড় করেন। একপর্যায়ে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এবং কিছু চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসার পরও সুস্থ না হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শহরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে এ ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।
মন্তব্য করুন