
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নয়তলা বিশিষ্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। প্রকৌশল দপ্তরের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই ভবনের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত দুটি লিফটের মধ্যে একটি গত মাসের শুরু থেকেই পুরোপুরি বন্ধ। সচল থাকা একমাত্র লিফটটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরেজমিনে আরও লক্ষ্য করা যায়, লিফটে ওঠার জন্য নিচতলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী লিফটে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে হেঁটে নয়তলায় ওঠেন, যা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। তাছাড়া লিফটগুলো পুরোনো ও ফাটলযুক্ত হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এগুলো বিকল হয়ে মাঝপথে আটকে যায়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এই সংকট নিয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের এমন দায়িত্বহীনতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল-আমিন বলেন, “নয়তলা ভবনে লিফট অকেজো থাকায় প্রতিদিন আমাদের ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি আমাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও লিফটে জায়গা না পেয়ে যখন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়, তখন ক্লাসে মনোযোগ দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। বারবার জানানোর পরেও কর্তৃপক্ষের এই নির্বিকার ভূমিকা আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের প্রতি চরম অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
লিফট সংক্রান্ত এই ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার সাফায়েত মোহাম্মদ বলেন, “লিফট এর পার্টস সংক্রান্ত দুর্বলতার কারণে বার বার এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে আগামীকালকের মধ্যে লিফটগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়। তবে বার বার এমন পার্টস সংক্রান্ত দুর্বলতার কারণ ও সমাধান জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।”
মন্তব্য করুন