
বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই বিতরণের রীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এই রীতি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই এখনো পৌঁছায়নি। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের বই বিতরণের কাজ এখনো ৭০% সম্পন্ন, মোট ছয় কোটি বই মুদ্রণ ও বিতরণ বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে প্রাথমিক এবং ইবতেদায়ি স্তরের সব বই ইতোমধ্যেই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এই স্তরের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনেই তাদের বই হাতে পাবেন।
এবার ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বই উৎসব আয়োজন করা হবে না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে সরাসরি তাদের বই পাবেন। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার কোনো স্কুল পরিদর্শন বা বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নালন্দা ছায়ানট স্কুলে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৯ কোটি এবং মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি স্তরে প্রায় ২১ কোটি বই মুদ্রণ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির সব বই ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে।
এনসিটিবি কর্মকর্তা জানান, এ বছর বইয়ের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক বই মুদ্রণের পরে পুনঃপরীক্ষা ও কেটে দেওয়ার কাজ হয়েছে। কিছু প্রেসকে নতুনভাবে উচ্চমানের কাগজ ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে। এর ফলে মান ঠিক রাখার কারণে বই বিতরণের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।
মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে মুদ্রণ করা হয়েছে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, বই বিতরণ সম্পন্ন করার শেষ সময় ২২ জানুয়ারি, তবে এনসিটিবির লক্ষ্য ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণ ও সরবরাহ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং ১ জানুয়ারি দেশের সব বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ব্রেইল পদ্ধতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষায় মুদ্রিত বইও শিক্ষার্থীদের হাতে বিতরণ করা হয়েছে।
অনলাইনে পাঠ্যপুস্তক উন্মুক্ত নতুন বছর শুরু হওয়ার আগেই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সব স্তরের পাঠ্যপুস্তক (৬৪৭টি) এনসিটিবির ওয়েবসাইটে অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকরা প্রয়োজনে পিডিএফ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার জানান, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে। অনলাইনে উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আগেই জানতে পারবে তারা কী বই পাবে।
মন্তব্য করুন