
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি মঙ্গলসুখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেট তালাবদ্ধ রাখার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ তালা ভেঙে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে, দশম গ্রেডসহ তিনদফা দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষকরা গেট তালাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনও হাতুড়ি ও ইলেকট্রিক মেশিনের মাধ্যমে তালা ভেঙে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন।
মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিউলি বেগম ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষকরা পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে বিরত ছিলেন। বিদ্যালয়ে চলতি বছরে ৭০২ জন শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
একই পরিস্থিতি পৌর শহরের রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দেখা যায়। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে পরীক্ষা চালু থাকলেও সহকারী শিক্ষকরা অসহমতি জানায়, ফলে একাই পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করছেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
উপজার ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮১৬ জন সহকারী শিক্ষক বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অফিস কক্ষে অবস্থান নেন। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সক্রিয় উপস্থিতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষিকা শিউলি বেগম বলেন, শাটডাউন কর্মসূচি থাকলেও কোমলমতি শিশুদের মেধা বিকাশের কথা চিন্তা করে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সহযোগিতায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা কোনভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না। দাবির বিষয়টি সরকারের সঙ্গে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শিশুদের পরীক্ষা বন্ধ রাখার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকরা জানান, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের কারণে উপজেলার প্রায় ১৫,৫০০ কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মন্তব্য করুন