
বলা চলে দেশে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে হাম পরিস্থিতি। মাত্র দু’মাসে এতে আক্রান্ত হয়ে ৫শ’ শিশু প্রাণ হারালো। যে অংক অনেক বেশি। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম আক্রান্ত দুজন মারা গেছে। আর ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে নয়জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারাদেশে গেল ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৫ জনের, আর হামের উপসর্গ নিয়ে ৪১৪ জন মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৬০ জন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে; আর ৭৯ জন মারা গেছে রাজশাহী বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ২৬১ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে; যাদের মধ্যে এক হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৪৯ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম ছয়জন ভর্তি হয়েছে রংপুরে। এ নিয়ে দেশে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০। আর হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৩২৯ জন। এর আগে গত ১৯ মে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের লক্ষণ নিয়ে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়। তাদের মধ্যে ২ জনের হাম আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৯ জনের মধ্যেও হামের উপসর্গ ছিল। ওই একই দিনে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ১৮টি নির্দেশনা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিতে দেশে টিকা সংকটের সৃষ্টি হয় এ কথা সত্য। কিন্তু মাত্র দু’মাসের মাথায় প্রায় ৫শ’ শিশুর মৃত্যু হবে এটিও স্বাভাবিক নয়। অতি দ্রুত হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন