
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার দৃশ্যপট ঘন ঘন বদলাচ্ছে। গত মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের মূল শর্তগুলো প্রকাশ করেছে ইরান। মঙ্গলবার তেহরানের এই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শান্তি পরিকল্পনার মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধাবসান এবং ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ঠিক একদিন আগেই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া এক প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছিল তেহরান। ইরানের দেওয়া এই শান্তি পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো সব ফ্রন্টে লড়াই পুরোপুরি বন্ধ করা। এর মধ্যে লেবাননে চলমান শত্রুতা ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবি রয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই চলছে। এ ছাড়া যুদ্ধকালীন হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি আরও জানান, ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর যে অবরোধ রয়েছে, তা পুরোপুরি প্রত্যাহারের শর্তও এতে যুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই শর্তগুলো তাদের আগের দেওয়া প্রস্তাবের চেয়ে বেশ আলাদা ও পরিবর্তিত। এর আগের প্রস্তাবটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিলেন। আলোচনায় অগ্রগতির কারণে ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত একটি সামরিক হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর কি হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। এখন একটাই প্রশ্ন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ সত্যিই কি থামবে?
মন্তব্য করুন