
অনেকেই বলছেন, দেশে হাম পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। তবে আমরা মনে করি, হাম নিয়ন্ত্রণে এখনো সময় আছে। তবে পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, গত একদিনে সারাদেশে হাম ও হাম সন্দেহে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৬৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ৪৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৯৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৩১৩ জন। ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭ হাজার ৮১৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, হামের টিকা যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এরই মধ্যে শতকরা ৮১ শতাংশ টার্গেট পূরণ হয়েছে। দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই শতভাগ টার্গেট পূরণ হবে। রোববার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে আরও কার্যক্রম নেওয়ার জন্য তারা তাদের আশা ব্যক্ত করেছেন। আমরা মনে করি, হামের টিকার প্রকৃত তথ্য স্বচ্ছভাবে সামনে আসা দরকার। সে তথ্য অনুযায়ী কাজ করা ছাড়াও হাম নিয়ে জনসচেতনতাও বাড়ানো দরকার।
মন্তব্য করুন