
রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলার রায় শিগগিরই আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় মিয়ানমারের দায় নির্ধারণ, চলমান নিপীড়ন বন্ধ, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হলে সিলেট ৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্মম আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণের মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয় আর তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা নির্বিচার হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তদন্ত শেষে সিদ্ধান্তে আসে, ২০১৭ সালে হওয়া ওই সামরিক হামলার সময় ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইসিজেতে যুগান্তকারী এ মামলার বিচার শুরু হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএনএইচসিআরের ১৩ এপ্রিলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। আমরা আইসিজের রায়টি যেমন চাই, তার চেয়েও বোধহয় বেশি চাই, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা দ্রুততর সময়ে তাদের দেশে ফিরে যাক। আমাদের কাছে তাদের ফেরত পাঠানোটা বেশি জরুরি।
মন্তব্য করুন