
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেনাকর পরিস্থিতির অবসান হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো যাতে ওয়াশিংটনকে সমর্থন না দেয় সেজন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তাদের তেলকূপসহ কোনও অবকাঠামো হামলার নিশানা হলে হামলাকারীদের সমর্থক উপসাগরীয় দেশগুলোতে ‘চারগুণ’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-অবরোধের মধ্যে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাকাব ইসফাহানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই হুমকি দেন। ইসফাহানি বলেন, “যে কোনও ধরনের আগ্রাসী আচরণের জবাব দেওয়া হবে। অবরোধের কারণে আমাদের তেলকূপসহ কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, আগ্রাসনকারীকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোতে একই পরিকাঠামোয় চারগুণ হামলা চালিয়ে আমরা সমপরিমাণ ক্ষতি নিশ্চিত করব। আমাদের অঙ্ক কষার পদ্ধতিটা আলাদা। যদি আমাদের একটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়, আমরা চারটি তেল শোধনাগারে হামলা চালাব।” এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের ওপর তেহরান কী পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ক্রমাগত চাপের ফলে ইরানের তেল মজুত বা ট্যাঙ্কারে স্থানান্তরের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। গত সপ্তাহে নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ছে! তারা এখনই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়, কারণ, তারা অর্থের জন্য হাহাকার করছে! প্রতিদিন তাদের ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। সামরিক ও পুলিশ বাহিনী বেতন না পেয়ে অভিযোগ করছে।” পরবর্তীতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের তেলের পাইপলাইনগুলো অকেজো হয়ে পড়তে পারে। ওয়াশিংটনের এই ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ এখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। ট্রাম্পের এই কথার জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে তেহরানের সুবিধাজনক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করার সামর্থ্য ইরানের রয়েছে। আমরা চাই এই পাল্টাপাল্টি হামলা এবং একই সাথে পাল্টাপালিট বক্তব্য বন্ধ হোক। উপসাগরীয় অঞ্চলে সকল প্রকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটুক।
মন্তব্য করুন