
বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর বের হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। চলমান এ যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে গত ৩১ মার্চ জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউএনডিপির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট বুধবার লিখেছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় আরব দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং আরব দেশগুলোর আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক আবদুল্লাহ আল-দারদারি সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আশারক আল-আওসাতকে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ একটি ‘তীব্র ও আকস্মিক অর্থনৈতিক ধাক্কা’ সৃষ্টি করেছে। “আমাদের এ অঞ্চলে মাত্র এক মাসের মধ্যেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “বহু বছরের অর্থনৈতিক সংকটের ফলে এত বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যেতে পারে। অথচ এখন তা ঘটছে মাত্র এক মাসের মধ্যে। এই সংকট উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা। এটা তাদের আর্থিক, খাতভিত্তিক এবং সামাজিক নীতিমালার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো মৌলিকভাবে পুনর্বিবেচনার তাগিদ দিচ্ছে।” আল-দারদারি বলেন, এ যুদ্ধের প্রভাব যে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হবে, তা এখন স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে। তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা চরম পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি; যার অর্থ জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর ভয়াবহ আঘাত। ইউএনডিপির প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তাতে আঞ্চলিক বেকারত্বের হার বেড়ে যেতে পারে চার শতাংশ পয়েন্ট। তাতে প্রায় ৩৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০২৫ সালে ওই অঞ্চলে সৃষ্ট মোট কর্মসংস্থানের চেয়েও বেশি।
মন্তব্য করুন