
যে মুহূর্তে পবিত্র রমজান মাসেও গুলি আর বোমার মুখে না খেয়ে রোজা পালন করছেন গাজার মানুষ। যে মুহূর্তে গোটা মুসলিম বিশ্ব, তথা মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত। যে মুহূর্তে প্রতি মুহূর্তে প্রাণ হারনোর ভয়ে আতঙ্কিত লেবাননের মানুষ। যে মুহূর্তে ইরানে শিশুদের স্কুলে পর্যন্ত বোমা ছুড়ছে আমেরিকা-ইসরায়েল। ঠিক তখন একটা মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হয়েও আফগানিস্তানের একটি হাসপাতালে হামলা চালিয়ে পাকিস্তান কাজটা কি ঠিক করলো? পত্রিকান্তরে খবর বের হয়েছে, আফগানিস্তানের কাবুলে একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিত্রাত এক্স পোস্টে বলেছেন, ২,০০০ শয্যার এ হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসা কেন্দ্রটিকে নিশানা করার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, কাবুল এবং আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারে সামরিক স্থাপনা এবং তাদের ভাষায় ‘সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামো’তে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বিবিসির সাংবাদিকরা হাসপাতালটি দেখেছেন, যার কিছু অংশ তখনও জ্বলছিল এবং ৩০টির বেশি মরদেহ স্ট্রেচারে করে বের করে আনতে দেখেছে প্রতিবেদকরা। হাসপাতাল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং তাদের ধারণা হতাহতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান আমরখাইল বিবিসিকে বলেছেন, হাসপাতালের কাছে কোনো সামরিক স্থাপনা নেই। বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে কাবুল জুড়ে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়; এরপর বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা সাইরেন শোনা যায়। প্রতিবেশী দুই দেশের চলমান সংঘাত গত মাসে আবার শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান, যা তালেবান সরকার অস্বীকার করেছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) বলছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন