
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকির কারণে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম তৃতীয় দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৭০ ডলার বেড়ে হয়েছে ৭৯ দশমিক ৪৪ ডলার। তার মানে আগের চাইতে দর বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।
আল জাজিরা লিখেছে, সোমবার এই দর ৮২ দশ ৩৭ ডলারে উঠেছিল যা গত বছরের জানুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ দর; যদিও পরে তা কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে স্থির হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডও ১ দশমিক ১৭ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭২ দশমিক ৪০ ডলারে ওঠে। লেনদেনের আগের পর্বে এই দর গত বছরের জুনের পর থেকে সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল, পরে কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে স্থির হয়।
আইজি মার্কেট বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “দ্রুত উত্তেজনা হ্রাসের কোনো লক্ষণ না থাকা, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হওয়া এবং ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে ইরানের নিশানা করার কারণে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি রয়েছে এবং সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা তত বৃদ্ধি পাবে।” লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাঙ্কার ভাড়া করার খরচ সর্বকালের সর্বোচ্চ চার লাখ ডলারেরও বেশিতে পৌঁছেছে।
এই রেকর্ড ভাড়া গুনতে হচ্ছে সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে, যা সর্বোচ্চ ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে পারে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছিল, তখনকার তুলনায় এই খরচা প্রায় দ্বিগুণ। ইরান তার দক্ষিণের হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে নিশানা করছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালী’তে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
এই উত্তেজনার জেরে সোমবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৯ দশমিক ৪০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত শুক্রবার ছিল ৭৩ ডলার। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই জলপথটি বন্ধ ঘোষণা করে সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ এখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।
ইরানের হামলায় অন্তত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীতে প্রায় ১৫০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে।
মন্তব্য করুন