
এই মুহূর্তে কখন ইরানে যুদ্ধ শুরু হয় সেই শঙ্কায় রয়েছে গোটা বিশ্ব। আর তার মাঝেই ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটির উপসাগরীয় দক্ষিণ উপকূলে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র আশঙ্কার মাঝেই ইরানের সামরিক বাহিনী এই মহড়া শুরু করেছে বলে মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ‘কম্বাইন্ড ১৪০৪ (২০২৬)’ মহড়া শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের এই মহড়া ইরানের দক্ষিণ উপকূলকেন্দ্রিক হলেও দেশটির অন্যান্য অংশেও একই ধরনের মহড়া চলছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, চলমান এই মহড়ায় ড্রোন, নৌযান, উভচর যান, স্থল-থেকে-সমুদ্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট নিক্ষেপের পাশাপাশি কামানও ব্যবহার করা হচ্ছে। আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ কারামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র, কামান, ড্রোন, বিশেষ বাহিনী, সাঁজোয়া যানসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান ব্যবহার করে খুব ভালো প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান হুমকির ভিত্তিতেই এসব মহড়া পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য জানাননি তিনি। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দুই দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। পরবর্তী দফা আলোচনার মাঝেই ইরানে সামরিক এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানানোর পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আনতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছে। তেহরান এমন সামরিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বেসামরিক প্রয়োজনে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের আছে বলে দাবি করেছে।
মন্তব্য করুন