
সর্বত্র এখন একই আলোচনা, বিশ্ব কি এভাবেই চলবে? এদেশ দখল নেয়ার ঘোষণা, ওই দেশে দখলদারিত্ব করতে তাদের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ! আর এক দেশকে গুড়িয়ে দেয়ার হুমকি? দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় কেউ সমালোচনা করলে তাদের অস্বাভাবিক হারে শুল্ক ঘোষণা! সর্বশেষ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন, তা থেকে ‘পিছু হটা হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে সভ্য সমাজ কি বলবে?
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প নেটো মিত্রদের একহাত নেওয়ার পাশাপাশি আর্কটিকের দ্বীপটি জোরপূর্বক দখল না করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে রাজি হননি, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যেখানে নেটোও সন্তুষ্ট হবে, আমরাও সন্তুষ্ট হবো বলে আমার ধারণা।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং এআই দিয়ে বানানো ছবি বা মকআপের সাহায্যে নিজের আকাক্সক্ষাকে জোরালভাবে তুলে ধরা ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড আকাক্সক্ষা মিত্র ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে; একইসঙ্গে তা দশকের পর দশক ধরে ইউরোপের নিরাপত্তায় ঢাল হয়ে থাকা নেটো জোটকেও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ওয়াশিংটনের এমন ‘জবরদস্তিমূলক চাহিদা’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে, যা গত বছর আটলান্টিকের এপারের ওপারের বাজার ও কোম্পানিগুলোকে অস্থির করে তুলেছিল। নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কথা বলার পর মঙ্গলবার ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক। এখানে পিছু হটার সুযোগ নেই, এ বিষয়ে সবাই একমত।”
নিজের বার্তাকে জোরালভাবে তুলে ধরতে তিনি একটি এআই দিয়ে বানানো ছবিও পোস্ট করেন, যেখানে তাকে মার্কিন পতাকা হাতে গ্রিনল্যান্ডে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, তার পাশে থাকা মানচিত্রে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এ ধরণের হুমকি অব্যাহত থাকলে বিশ্ব কিভাবে স্থিতিশীল থাকবে? ঘুরেফিরে এমন প্রশ্ন সর্বত্র।
মন্তব্য করুন