
পত্রিকান্তরে খবর বের হয়েছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ইউনিটটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই এখন অচল অবস্থায় রয়েছে।
রোববার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় হঠাৎ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পুরো বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এর আগে কেন্দ্রটির ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে উৎপাদনের বাইরে। প্রথম ইউনিটটি চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু করা হলেও মাত্র চার দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে যায়, যা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বয়লার সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে মেরামত কাজ শুরু করা হবে। তবে পুরোনো ইউনিট হওয়ায় মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং কবে নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এই মুহূর্তে সারাদেশে বাসা-বাড়িতে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি গ্যাসের সংকট অত্যান্ত তীব্র। কোনো দোকান অল্প কিছু গ্যাস দিতে পারলেও চাহিদার তুলনায় তা অত্যান্ত অপ্রতুল। তারপরও দাম অনেক চড়া, যা সবাই কিনতে পারছেন না। আবার সিলিন্ডারে মিল না থাকায় গ্যাস কিনতেও পারছেন না অনেকেই।
শহরের ফ্লাট জীবন এবং বাসা-বাড়িতে কাঠের চুলো ব্যবহার একেবারে উঠেই গেছে। এই অবস্থায় মানুষ বৈদ্যুতিক চুলো ব্যবহারে ঝুঁকে পড়ছে। তার মাঝেই নতুন সংকট লোডশেডিং। এতে বড়ই বিরম্বনায় পড়েছে নাগরিক জীবন। আর তার মাঝেই বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর কতোটা সুখকর তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
মন্তব্য করুন