
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা-অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়াও নিন্দা জানিয়ে ও ঘটনার দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি)। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা এ জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বিবৃতিতে বলা হয়, “গত রাতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি)। এ ধরনের সংঘাত ও ভীতি প্রদর্শন অগ্রহণযোগ্য এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের উপর আঘাত।” এমএফসি বলেছে, “সব গণমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের ভয়হীন থেকে কাজ করার সুযোগ অবশ্যই থাকতে হবে। আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং উন্মুক্ত ও তথ্য সমৃদ্ধ সমাজের জন্য তাদের সুরক্ষা অপরিহার্য।” গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করা ৫১ দেশের জোট মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন। ২০১৯ সালে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত এই মোর্চার বর্তমান কো-চেয়ার জার্মানি এবং ফিনল্যান্ড। বাংলাদেশে দূতাবাস থাকা কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য এই যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানোনো হয় বিবৃতিতে।
এদিকে, অভ্যুত্থানের অন্যতম আইকন শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মুক্ত গণমাধ্যম, ভিন্নমত ও বাকস্বাধীনতার ওপর সংগঠিত ও অভূতপূর্ব ধ্বংসাত্মক আক্রমণকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, নাগরিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার চেতনা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হিসেবে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবি লক্ষ্য করছে, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে বিচারের জন্য গ্রেপ্তার করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটে হামলা এবং দীপু চন্দ্র দাসকে আগুনে পুড়িয়ে মারা-এসবই মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশকে পরিকল্পিতভাবে দমনের উদাহরণ। স্বাধীন গণতন্ত্রে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক আক্রমণ অগ্রহণযোগ্য এবং রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ।
মন্তব্য করুন