
আজ গৌরবময় মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাকহানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের।
তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। বিশেষ করে যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের জন্য। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের। এ দেশের মানুষের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। তাদের সবাইকেই আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষপ্রান্তে পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা বেছে বেছে এ ভূখণ্ডের কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, দার্শনিক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী হত্যার যে তাণ্ডবে মেতে উঠেছিল, সেই ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। স্বজন হারানোর স্মৃতি এ বিজয়ের দিনেও আমাদের বিষাদগ্রস্ত করে।
এবারের মহান বিজয় দিবস উদযাপনে আমাদের শপথ হোক সব ষড়যন্ত্রের অর্গল ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই অর্জিত হবে আমাদের প্রকৃত বিজয়।
মন্তব্য করুন