
আবারও বাউল গানের আসরে হামলা হয়েছে। পত্রিকান্তরে খবর বের হয়েছে, শেরপুর সদর উপজেলার এক বাউল গানের আসরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার দুদিন পরও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের গণইভরুয়াপাড়া গ্রামে শামীম ড্রাইভারের বাড়ির পাশে সদ্য ধান কাটা ক্ষেতে আয়োজন করা বাউল গানের আসরে এ হামলা হয়।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক গালাগালি করে বাউল গানের আসরের সরঞ্জাম ভাঙচুর করছে। আকস্মিক হামলায় উপস্থিত দর্শকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলে গণইভরুয়াপাড়া ও আশেপাশের এলাকার মানুষ বাউল গানের আসরে ভাঙচুরের বিষয়টি জানলেও কারা হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে চায়নি।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন গানের অনুষ্ঠানের আয়োজক ড্রাইভার শামীম মিয়া। শনিবার সকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি বাউল গানের আয়োজন করেছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে এখানে কোনো গান-বাজনা চলবে না বলে ভাঙচুর করেছে। পরে বাউল গান আর হয়নি।” একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সামেদুল ইসলাম, পাশের শেখহাটি এলাকার রবিউল এবং গণইভরুয়াপাড়ার পল্লী দন্ত চিকিৎসক আসাদ আলীসহ অনেকেই বলেন, বাউল গানের আসরে তারা যাননি। তবে সেখানে গণ্ডগোল এবং হারমোনিয়াম ও বাঁশিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে ফেলার কথা তারা শুনেছেন।
এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে অতিথি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের জেরেও এ হামলা ঘটতে পারে বলে ধারণার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন। বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনা দেশে এইই প্রথম না। বাঙালি সংস্কৃতির উপরে এধরণের হামলা বন্ধ হওয়া দরকার।
মন্তব্য করুন