
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১২টা ১৫ মিনিটের বাজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৭ সেন্ট বা ০.৬৯ শতাংশ কমে ৯৭.১৪ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ কমে ৯৫.৪০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্য ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
তবে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে যাওয়া এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। এর ফলে তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং দাম নিম্নমুখী হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান কূটনৈতিক অগ্রগতি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
তারা মনে করছেন, সরবরাহ ঝুঁকি কমে গেলে আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম আরও হ্রাস পেতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতি, পরিবহন খাত এবং সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় ব্যবস্থাপনায়।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, তেলের দামের ভবিষ্যৎ প্রবণতা এখনও অনেকাংশে নির্ভর করছে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সেখানে কোনো ধরনের নতুন উত্তেজনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন