
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে এশিয়ার শেয়ারবাজার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরে তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়া না করার পরামর্শও দেন।
সোমবার (২৫ মে) এশিয়ার বাজারে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫০ ডলারে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে হয়ে থাকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। তবে প্রণালিটি আবার চালু হতে পারে— এমন আশায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংঘাত তাদের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছিল। ফলে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে ‘শান্তি সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে চুক্তির অধিকাংশ বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
এছাড়া তিনি জানান, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনালাপও ইতিবাচক ছিল। তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেছেন, যেকোনও সমঝোতায় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান কিছুটা কাছাকাছি এসেছে। তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত মার্চের শুরু থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছিল ইরান। পরে সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতেও হামলা চালায় তেহরান।
পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন