
আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিরতার পর স্বর্ণের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া ইতিবাচক আশাবাদ এবং বৈশ্বিক সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে—যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই তা স্থগিত করা হয়। এই বক্তব্য বিশ্ববাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা উভয় পক্ষই চাইছে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ৪,৪৯৯.৬৯ ডলারে।
এর আগের কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকেত বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের চুক্তির দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫০২.৩০ ডলারে নেমেছে।
ফিলাডেলফিয়া ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অ্যানা পলসন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমান সুদের হারের স্তরটি সাময়িকভাবে উপযুক্ত। বাজারে এখনো মূল্যস্ফীতির চাপ চড়া থাকায় এই সুদের হার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করছে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন ভাবনাকে তিনি একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে রয়টার্সের এক জরিপে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ আভাস দিয়েছেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) এই বছর সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে পারে।
বাজারে চলমান মূল্যস্ফীতির এই ধাক্কাটিকে সাময়িক মনে করছেন তারা। ফলে সুদের হার কমানোর যে দীর্ঘদিনের পূর্বাভাস ছিল, তা আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের এপ্রিল মাসের নীতি নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা আজই অবমুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৪.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯২৬.৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন