
ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইসরায়েলের অর্থনীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবসে তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান ইসরায়েলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে গত দুই প্রান্তিক ধরে বজায় থাকা প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা হঠাৎ করেই থমকে গেছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। এটি সাধারণ মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর বড় চাপের ইঙ্গিত বহন করছে।
এর আগে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ইসরায়েলের অর্থনীতি ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। তবে নতুন বছরের শুরুতেই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই প্রবৃদ্ধি বড় ধাক্কার মুখে পড়ে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশটির নাগরিকদের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যক্তিগত ভোগব্যয় কমে যাওয়া সাধারণত অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়ার স্পষ্ট সংকেত দেয়। যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, অর্থনীতির অন্যান্য খাত সংকুচিত হলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কারণে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যয় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে দেশটিতে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সে সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য ও দৃশ্য প্রচারের ওপর ইসরায়েল সরকার অত্যন্ত কঠোর সেন্সরশিপ এবং নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। ফলে অনেক তথ্যই সাধারণ মানুষের সামনে আসছে না।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।
মন্তব্য করুন