
দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে তুলে ধরে নতুন ডিজাইন ও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত ৫ টাকার কারেন্সি নোট বাজারে ছাড়ল সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে নতুন এ নোট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলনে আনা হয়েছে।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষরযুক্ত এই নতুন নোটটি উন্নত ডিজাইন ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুদ্রণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রথম ধাপে নতুন ৫ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য শাখা থেকেও ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।
নতুন নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার। নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে স্থান পেয়েছে ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদের ছবি। মাঝখানে যুক্ত করা হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলার প্রস্ফুটিত নকশা, যা নোটটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
অন্যদিকে, নোটের পিছনের অংশে রাখা হয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র, যা সমসাময়িক শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন নোটে জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ সম্বলিত জলছাপ, উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ ‘৫’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম।
এছাড়া নোটের বাম পাশে ২ মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযুক্ত করা হয়েছে, যা আলোর বিপরীতে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। সম্মুখভাগের নিচের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট প্রযুক্তিতে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ শব্দ মুদ্রিত রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ৫ টাকার নোট চালুর পরও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা বৈধ এবং সচল থাকবে।
এদিকে, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে ৫ টাকার ‘স্পেসিমেন’ বা নমুনা নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময়যোগ্য নয় এমন এই নমুনা নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
মন্তব্য করুন