
কঠিন অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। আসন্ন বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সাধারণ ব্যবহার্য বিভিন্ন খাতে নতুন করে কর আরোপের পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)।
প্রস্তাবিত বাজেটে ধান, চাল, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যে কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মসলা, ডালজাতীয় পণ্য এবং ফলমূলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ওপরও নতুন কর কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল ব্যবহার, মোবাইল ফোন ও এর যন্ত্রাংশসহ দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন খাতেও বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জানা যায়, আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলেও ঠিকই করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার আয়োজন করেছে এনবিআর। আর তা করতে গিয়ে নিত্যপণ্যেই বসানো হচ্ছে বাড়তি কর। বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উৎস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।
এদিকে বাজেটে বাড়তি করের বোঝা সাধারণ মানুষের ঘাড়ে না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দিনভর বৈঠকে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহায়ক বাজেট করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন