
২৮
দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের সুফল ভোগের সুযোগ করে দিতে এবং তাদের অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’ দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে পিকেএসএফ এবং বিশ্বব্যাংক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমানে মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছেন, তাদের উন্নয়নের স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা নাগরিক অধিকারের অংশ। তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির সুফলও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে—যাকে তিনি “অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পিকেএসএফ-এর কার্যক্রম আরও তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা বিবেচনা করছে।
গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, নারীরা পরিবারকে আগলে রাখেন এবং তারা সঞ্চয় করতে জানেন। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ সৃষ্টির চেষ্টা করছে সরকার। একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উচ্চব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে দেশের অবশিষ্ট ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্প ও সংস্কৃতির সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শীতলপাটির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্য এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। পণ্যের মান ও ডিজাইনের আধুনিকায়ন এবং সঠিক মার্কেটিং কৌশলের অভাবই এর প্রধান কারণ। তিনি এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো অ্যামাজনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশি পণ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
পরিশেষে, খেলাধুলা, মিউজিক ও থিয়েটারকে কেবল বিনোদন নয়, বরং বড় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সঠিক বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা থাকলে এই খাতগুলো জিডিপিতে বড় অবদান রাখতে পারে। দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য এসব সম্ভাবনাময় খাতে সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্ব বাড়ানো অপরিহার্য।
মন্তব্য করুন