
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি জোরদার করেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কৌশলগতভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে পরিশোধিত তেল সংগ্রহ করছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। এতে করে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।
তবে বর্তমান সংকটের কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইআরএল কার্যক্রমে চাপের মুখে পড়েছে।
ইআরএলের বার্ষিক ১৫ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে— ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল, ৬ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ৩ লাখ মেট্রিক টন অকটেন ও পেট্রোল।
বাংলাদেশে মোট ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে ১৫ লাখ টন ইআরএল থেকে আসে এবং বাকি অংশ পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল আমদানি সম্ভব হয়নি।
মার্চ মাসে এক লাখ মেট্রিক টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড বহনকারী একটি জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে পারস্য উপসাগরের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে।
এ ছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরও এক লাখ মেট্রিক টনের একটি চালান বাতিল করেছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল লোড হওয়ার কথা রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। মে মাসে বাড়তি তেল সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয়ে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
মন্তব্য করুন