
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য আল্টিমেটাম দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১১০.৩৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাস মধ্যবর্তী (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে ১১৩.৬৭ ডলারে দাঁড়ায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে “তেহরানের ওপর নরক নেমে আসবে।”
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানবে না। তাদের দাবি, স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে দেওয়া হবে না। এছাড়া কোনো ধরনের সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়াও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের স্পট প্রিমিয়াম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সৌদি আরামকো মে মাসের জন্য তাদের ‘আরব লাইট’ ক্রুডের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে, যা ওমান/দুবাই গড়ের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ১৯ দশমিক ৫০ ডলার বেশি।
আবার রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের টার্মিনালে হামলা চালিয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালনা করে।
উল্লেখ্য, মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তেহরান নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ীভাবে সংঘাতের সমাপ্তিই হওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন