
রমজান মাস ও ঈদের পরে প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও চড়া যশোরের নিত্যপণ্যের বাজার। বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে সবজি, মশলা ও মাংসে। রমজান মাস পেরিয়ে গেলেও কমেনি সবজির দাম। ঈদ পরবর্তী সময়ে মশলার বাজার এখনো চড়া। আমদানি পণ্য মশলায় বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে এখনো। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আমদানি স্বল্পতায় বাড়তি দর এমনটাই বলছেন মশলা বিক্রেতারা। অন্যদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাংস। অন্যান্য নিত্যপণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে সবজিতে। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০টাকায়। লাউ ৬০ টাকা, এচোড় ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেড়স, বেগুন, মিষ্টি আলু ৫০টাকা, চিচিঙ্গা, বরবটি, ঝিঙে, কচুরলতি ৮০, উচ্ছে ১০০, পেঁপে, কাচকলা, মিষ্টি কুমড়া ৪০, সজিনা, শসা ৬০, মানকচু ৫০, বাধাকপি ৩০, শিম, মেটে আলু ৬০, গাজর, শালগম, বিটকপি ৪০, ক্যাপসিকাম ১০০, টমেটো ৩০থেকে ৪০টাকা। লেবু ৪০টাকা হালি। অন্যদিকে কাঁচামরিচের দাম শতকের নীচে নামলেও এখনো সহজলভ্য হয়নি। বিক্রি হচ্ছে ৬০থেকে ৮০টাকা কেজিতে। আমদানি পণ্য মশলায় বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৮০০থেকে ছয় হাজার টাকা কেজিতে। জিরা ৭০০থেকে এক হাজার টাকা কেজি। গোলমরিচ এক হাজার ১০০থেকে এক হাজার ৪০০টাকা। দারুচিনি ৪৫০থেকে ৫৮০টাকা। লবঙ্গ এক হাজার ৩০০থেকে এক হাজার ৬০০টাকা। পেঁয়াজ ৩০থেকে ৩৫টাকা কেজি। রসুন ৮০থেকে ২৪০টাকা। আদা ১৬০থেকে ২২০টাকা কেজি। মুদি ব্যবসায়ী আশিকুজ্জামান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ না থামলে আমদানি পণ্য স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। আরেক ব্যবসায়ী রবিন সাহা বলেন, মশলার দাম আরও বাড়বে। বাজারে মশলার যোগান কম এ কারণে দাম বেশি। একই কথা বলেন মুদি ব্যবসায়ী শিমুল হোসেন। বেজপাড়া এলাকার আলেয়া আক্তার বলেন, রোজার শেষের দিকে মশলা কিনেছি চড়া দাম ছিল, এখনো সে অবস্থা চলছে। খালধার রোড এলাকার আকবর রনি বলেন, ঈদের আগে চড়া দামে মাংস ও মশলা কিনেছিলাম ঈদের পরেও একই অবস্থা। লোনঅফিস পাড়ার শিরীনা বেগম বলেন, দাম একবার বেড়ে গেলে তা আর কমে না এটাই বাস্তবতা। এদিকে চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে মাংসে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০টাকা কেজিতে। সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০টাকা। লেয়ার মুরগি ৩৭০টাকা। দেশি মুরগি ৬০০টাকা। গরুর মাংস ৭৫০থেকে ৮০০টাকা। খাসির মাংস এক হাজার ২০০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৩০থেকে ১৮০টাকা কেজিতে। পাঙ্গাশ ১৪০থেকে ২০০টাকা। সিলভার কার্প ১৫০থেকে ২০০, রুই ২২০থেকে ৪২০, কাতলা ২৮০থেকে ৪০০, মৃগেল ও গ্রাসকার্প ২৫০টাকা, বাইম ৬০০থেকে এক হাজার টাকা, শোল ৪০০থেকে এক হাজার টাকা। টেংরা ৬০০থেকে ৮০০, পাবদা ৩৫০থেকে ৪০০, মায়া ও পুঁটি ৪০০, টাকি ৪০০, কৈ ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০টাকা, চান্দা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। শিং ৩০০থেকে ৮০০, ফলোই ৪০০, খলসে ৩০০, রয়না, কাকলে ৮০০, বাটা ১৮০, গুতেল এক হাজার টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০, ভেটকি ৬০০ থেকে ৮০০, আইড় ৭০০থেকে ৮০০টাকা। ইলিশ মাছ ৫০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। চিংড়ি ৬০০ থেকে এক হাজার ২০০টাকা। ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬টাকা হালিতে। সোনালী মুরগির ডিম ৫০টাকা। দেশি মুরগির ডিম ৬০টাকা। হাঁসের ডিম ৬৮টাকা। কোয়েল পাখির ডিম ১২টাকা হালি। চালের বাজারে স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০থেকে ৫২টাকা কেজিতে। আঠাশ ও কাজললতা ৬০থেকে ৬২টাকা। মিনিকেট ৬৮থেকে ৭৬টাকা। বাসমতি ৭৮ থেকে ৮৬টাকা। নাজিরশাইল ৮০থেকে ৮৪টাকা কেজি। মুদি বাজারে মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০থেকে ১৬০টাকা কেজিতে। মুগ ডাল ১৩০থেকে ১৬০টাকা কেজি, ছোলা ও মাসকলাইয়ের ডাল ১০০, মটরের ডাল ১১০, বুট ডাল ৬০টাকা কেজি। খোলা সয়াবিন তেল ২০৫টাকা কেজি। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫টাকা লিটার। লবন ৪০টাকা কেজি। চিনি ১০০থেকে ১২৫টাকা কেজি। খোলা আাটা ৪০টাকা। প্যাকেট আটা ৫৫টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মন্তব্য করুন