
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টায় ভারতের নুমালীগড় থেকে আসা ৭ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছায়। এই তথ্য নিশ্চিত করেন পার্বতীপুর পদ্মা ওয়েল পিএলসি রেলহেড ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) আহসান হাবিব চৌধুরী।
তিনি জানান, গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই চালান বাংলাদেশে আসা শুরু হয়। প্রায় ১৪৬ ঘণ্টার পরিবহন শেষে তা সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। এর আগে ১১ মার্চ প্রথম দফায় বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ৫ হাজার টন ডিজেল আসে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখা হয়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় আরো ১০ হাজার টন ডিজেল আসে। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে তিন ধাপে ১৫ হাজার টন এবং সর্বশেষ ৭ হাজার টনসহ মোট ২২ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) ও আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে এপ্রিল মাসে আরও ৪০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার টন করে ডিজেল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে পৌঁছাবে।
মন্তব্য করুন