
চোখকে প্রশান্তি দেয় ঘরের মনোরম আবহ। সাজানো গোছানো পরিপাটি সুন্দর একটি বাড়ি রুচির পরিচয় বহন করে বাড়ির বাসিন্দাদের। তাই উৎসবে অতিথি অভ্যর্থনার জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি আয়োজনের। ঘর সাজাতে ভালোবাসেন সৌখিন মানুষ। উৎসবে তাই নিজেকে সাজানোর পাশাপাশি চলে গৃহসজ্জা সামগ্রী কেনার ব্যস্ততা।
শেষ হতে চললো সিয়াম সাধনার মাস রমজান। আর কয়েকদিন বাদে ঈদুল ফিতর। বড় উৎসব মানেই বড় প্রস্তুতি। কেনাকাটার এ পর্যায়ে যশোর শহরের সৌখিন মানুষ ভীড় করছেন গৃহসজ্জা সামগ্রী’র দোকানে। ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়াতে এ মুহূর্তের ঈদ কেনাকাটায় তাই গৃহসজ্জা সামগ্রীর দোকানে ছুটছেন ক্রেতারা। ঈদের দিনটিতে সাজানো গোছানো সুন্দর একটি ঘরে অতিথি অভ্যর্থনার জন্য বিছানায় নতুন চাদর, জানালায় নতুন পর্দা, নতুন কার্পেট, সোফাসেট, ম্যাট্রেস, কুশন, পাপোস কেনা তাই অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতানে এসকল গৃহসজ্জা সামগ্রীর দোকানে আসছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন দরদামে পাওয়া যাচ্ছে গৃহসজ্জা সামগ্রী। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী এসকল সৌখিন জিনিস কিনছেন ক্রেতারা। গৃহসজ্জা সামগ্রীর দরদাম : কাপুড়িয়া পট্টিসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গৃহসজ্জা সামগ্রীর বিভিন্ন দোকানে নানান দামে বিক্রি হচ্ছে বিছানার চাদর, সোফাসেট, ম্যাট্রেস, কার্পেট, পর্দা, কুশন ও পাপোস। বিছানার সিঙ্গেল চাদর বিক্রি হচ্ছে ৩০০থেকে এক হাজার ৫০০টাকায়। বিছানার ডাবল চাদর ৭০০থেকে দুই হাজার ২০০টাকা। বিছানার চাদরের গজ কাপড় ২৩০থেকে ৪৮০টাকা। সোফার ফোম চার হাজার থেকে সাত হাজার টাকা।
সোফা কাভার এক হাজার ৫০০থেকে সাত হাজার টাকা। ম্যাট্রেস চার হাজার ৫০০থেকে ২০হাজার টাকা। কার্পেট ৬০০থেকে দশ হাজার টাকা। জানালার পর্দা ১৫০থেকে দুই হাজার টাকা। পর্দার গজ কাপড় ৫০থেকে ২৫০টাকা। কুশন ১৫০থেকে দুই হাজার টাকা। মশারি কাভার ৪৫০থেকে ৭৫০টাকা। পাপোস ১২০থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছেন ক্রেতারা : বসুন্দিয়া এলাকার সালেহা খাতুন বলেন, প্রতি ঈদে সব খরচ শেষে আর কিছু না পারি বিছানার চাদরটা নতুন কিনি। বাজেটে মিললে এবারে চাদর এবং জানালার পর্দা দুটিই কেনার ইচ্ছা আছে। রাঙামাটি গ্যারেজ এলাকার সোহেলী আক্তার বলেন, সৌন্দর্য্য সচেতন মানুষ মাত্রই ঘর সাজাতে পছন্দ করেন। শুধুতো নিজে সাজলে হয় না, নিজের এবং পরিবারের কেনাকাটার পাশাপাশি ঘরও তো সাজাতে হয়। বিরামপুর এলাকার মেহেরুন নেছা বলেন, জানালায় নতুন নতুন পর্দা ভালোলাগে। তাই শুধু ঈদ না বছরের অন্যান্য সময়েও পর্দা কিনি। তবে সব ধরনের নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের আঁচ লেগেছে যেন এসকল জিনিসপত্রেও।
যা বলছেন বিক্রেতারা : কাপুড়িয়া পট্টির হোম টাচ’র বিক্রেতা মোহম্মদ সোহেল বলেন, রোজা শেষ হতে চললো বেচাবিক্রি হচ্ছে না তেমন, বেচাকেনা গতবারের চেয়েও কমে গেছে। সিদ্দিক বস্ত্রালয়ের বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, যারা জানালা ও বিছানার চাদর বানিয়ে নেন, তারা রোজার প্রথমেই এসব কিনে বানিয়েছেন। এখন রোজার শেষে এসে কাস্টমার কম পাচ্ছি। পাপোস, কুশন এমন ছোট ছোট জিনিস কিছুটা বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা বস্ত্র বিতানের বিক্রেতা ওসমান গণি বলেন, বেচাকেনা তেমন নেই। বিছানার চাদর কিছুটা বিক্রি হচ্ছে, কেউ কেউ পর্দাও কিনছেন। এর বাইরে ঘর সাজানোর অন্যান্য জিনিসের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম।
মন্তব্য করুন