
আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবন নারীর পোশাকে আমূল পরিবর্তন এনেছে। নারীর রোজকার জীবনে জায়গা করে নিয়েছে নানান ধরনের পোশাক। কর্মব্যস্ত নারী জিন্স, গ্যাবাডিন, টপস্, ওয়ান পিস, থ্রি পিসসহ নানান ধরনের পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য। তবে বাংলার নারী যে পোশাকই পরুক না কেনো তার শ্বাশত রূপ প্রকাশ পায় শাড়িতে। চিরাচরিত শাড়িতেই সম্পূর্ণা নারী। তাই আজও পর্যন্ত উৎসব এলেই নারী খোঁজেন শাড়ি। উৎসবের সাজে বারো হাতের শাড়িতেই বাংলার নারী হয়ে ওঠে অনন্যা। ঠিক কবে থেকে এদেশে শাড়ি পরার প্রচলন শুরু হয়েছিল তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও আজও পর্যন্ত শাড়িই বাংলার নারীর অন্যতম পোশাক।
সভ্যতার চরম উৎকর্ষের এ সময়ে মানুষের ব্যস্ততা যখন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তখন ব্যস্ত এ সময়ে এসেও উৎসব মানেই নারীর সাজ শাড়িতে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে দু-দুটি বড় উৎসব। ঈদুল ফিতর শেষে কিছুদিন বাদে পহেলা বৈশাখ। এমন বড় দুটি উৎসবের কারণে অন্য পোশাকের পাশাপাশি নারীদের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে শাড়ি। যশোরের বিভিন্ন বিপনীবিতান নানান নকশার ও দামের শাড়িতে সেজে উঠেছে। বেচাকেনাও শুরু হয়েছে শাড়ির। শহরের হাটচান্নি মার্কেট, কাপুড়িয়াপট্টি, জেস টাওয়ার, সিটি প্লাজা, মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজগুলোতে শুরু হয়েছে শাড়ির বেচাকেনা। তবে এবারেও শাড়ির বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে।
হালফ্যাশনের শাড়ি : শীতের শেষ আর গরমের শুরু যে কারণে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে হালকা শাড়ি। সুতি, হাফ সিল্ক আর জর্জেট এমন হালকা শাড়িই বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে এবারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে জিমিচু, মসলিন ও অরগাঞ্জা। সিল্কের ওপরে কারচুপি, চুমকি পুঁতির কাজের এ শাড়িই এবারের হাল ফ্যাশন। সাথে এবারে আরও চলছে মসলিন ও অরগাঞ্জা। এবারে অন্য শাড়ির তুলনায় এ ধরনের শাড়ির বিক্রি বেশি বলে জানান বিভিন্ন বিপণীবিতানের বিক্রেতা ও সত্ত্বাধিকারীরা। এছাড়াও গত ঈদের মতো এবারেও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় আছে তানাবানা ও জর্জেটের ওপরে এমব্রয়ডারি ও ভারী কাজের ভারতীয় শাড়ি।
কোথায় কেমন দাম : হাটচান্নি মার্কেটে প্রিন্ট ও প্রাইড শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০টাকায়। বি প্লাস শাড়ি এক হাজার ১০০ থেকে ৮হাজার টাকা। ব্লক শাড়ি ৭৮০থেকে ১হাজার ৫০০টাকা। বাটিকের শাড়ি এক হাজার ৪০০টাকা, জর্জেট এক হাজার ২০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। টেন্সি জামদানী ২হাজার থেকে ৫হাজার টাকা। টাঙ্গাইল ৮০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। কাপুড়িয়াপট্টিতে জিমিচু শাড়ি বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৫০০থেকে আট হাজার টাকায়। মসলিন পাঁচ হাজার থেকে ১৫হাজার টাকা। অরগাঞ্জা তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। টাঙ্গাইল সিল্ক দুই হাজার থেকে ১২হাজার টাকা। মিরপুর কাতান ১হাজার থেকে ১০হাজার টাকা। হাফ সিল্ক ৭০০থেকে দুই হাজার টাকা। জামদানী চার হাজার থেকে ২৫হাজার টাকা। তানাবানা তিন হাজার থেকে ৫হাজার ৫০০টাকা। বেনারশি তিন হাজার থেকে ৩০হাজার টাকা। ইদকাত ও কাঞ্চিভরম ১৫হাজার থেকে ২০হাজার টাকা। গাদোয়াল ১৫হাজার থেকে ৩০হাজার টাকা। ভোজপুরি সিল্ক পাঁচ হাজার থেকে ১০হাজার টাকা। পঞ্চপল্লী ২০হাজার থেকে ৩০হাজার টাকা।
জেস টাওয়ারে শাড়ি পাওয়া যাবে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজগুলোতে নিজস্ব ব্রান্ডের সুতি ও সিনথেটিক শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এসব শাড়ি ১হাজার ৫৮০ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিটি প্লাজায় টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। কাঞ্চিভরম ও কাঞ্জিলাল ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। ভোজপুরি ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ঘিসা কাতান পাঁচ হাজার থেকে ১৫হাজার টাকা। মণিপুরি দুই হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৫০০টাকা। আড়ং শাড়ি এক হাজার থেকে ৩হাজার ৫০০টাকা। এছাড়া বিভিন্ন শোরুমে যশোরের স্থানীয় হাতের কাজের সুতি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। সিল্কের ওপরে হাতের কাজের শাড়ি এক হাজার ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছেন ক্রেতারা : বাঘারপাড়া থেকে আসা মাইশা আক্তার রিশা বলেন, ঈদ উপলক্ষে জিমিচু শাড়ি কিনেছি আর ঈদের পরেই যেহেতু পহেলা বৈশাখ তাই সুতির শাড়িও কিনলাম। তবে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। নীলগঞ্জ এলাকার নাফিসা তাবাসসুম বলেন, দেশি পোশাক ও শাড়ির দাম গতবারের মতোই মনে হচ্ছে। তবে ভারতীয় ও পাকিস্তানী পোশাক এবং শাড়ির দাম বেশি। মাইকপট্টি’র জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, যা কিছুই কিনি, একটা শাড়ি না কিনলেতো হয় না। তাই এবারেও শাড়ি কিনতে আসলাম। চুড়ামনকাটি’র আরিফা সুলতানা বলেন, শাড়ি না কিনলে কেনাকাটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। প্রতি বছরই শাড়ি কিনি, তাই এবারেও কিনতে এসেছি।
যা বলছেন বিক্রেতারা : কাপুড়িয়াপট্টির বন্ধন শোরুমের বিক্রেতা মানিক সাহা বলেন, গতবারের তুলনায় এবারে বেচাকেনা কম। জিমিচু শাড়ি পছন্দ করছে সবাই, সেই সাথে মসলিন ও অরগাঞ্জার শাড়িও বিক্রি হচ্ছে এবারেও। গাড়ীখানা’র দোলা নকশী ঘরের স্বত্বাধিকারী লতিফা শওকত রূপা বলেন, ১০ রোজার পর থেকে শাড়ির বেচাকেনা শুরু হয়েছে। থ্রি-পিসের তুলনায় শাড়ির বিক্রি কম হচ্ছে, তবে সামনের দিনগুলোতে বাড়তে পারে। সিটি প্লাজার অধরা শোরুমের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বিক্রি এখনো জমে ওঠেনি, যা একটু বিক্রি হচ্ছে তার সবই সুতি ও হালকা ধরনের শাড়ি। এগুলোই নারীরা পছন্দ করছেন বেশি। মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজ সুতোয় বোনা’র স্বত্বাধিকারী সোলায়মান হোসেন নয়ন বলেন, বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে, ২০ বা ২২ রোজার পরে আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
মন্তব্য করুন