
পাবনার বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ কমেছে। জেলার বড় বাজার, মাসুম বাজার ও লাইব্রেরি বাজারে দেখা গেছে, পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়, আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় পুরোনো পেঁয়াজের দাম ছিল ১৩০-১৪০ টাকা এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৯০-৯৫ টাকায়।
বড় বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, শুধু শুক্রবার বাজারে অতিরিক্ত চাপ ছিল। তবে এরপর দাম কমে এসেছে। ১৪০ টাকার পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১২৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে, যার ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ ওঠানামা কমানো দরকার এবং বাজারের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে।
আরেক ব্যবসায়ী মকবুল বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এখন দাম কমছে। কৃষকদের স্বার্থে দাম সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। যদি দাম আরও কমে, কৃষকরা লোকসান ভোগ করবেন। মণ প্রতি ২৫০০ টাকা হলে কৃষক লাভবান হবেন এবং উৎপাদনও বাড়বে।
ক্রেতাদেরও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একমত পোষণ করতে দেখা গেছে। রাইসুল ইসলাম জানান, বাজারে শৃঙ্খলা নেই। একদিনে দাম বাড়ে, আবার আমদানির খবর আসলে কমে যায়। তিনি বলেন, দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলে ভোক্তা ও কৃষক দুজনই উপকৃত হবেন। ৫০ টাকার মধ্যে দাম থাকা উচিত।
কৃষকরা জানান, গত বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে কেউ কেউ ৭০-৮০ হাজার টাকা লোকসান ভোগ করেছেন। বাজারে দাম বাড়ার সময়ই বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলে বাজারে দাম হঠাৎ কমে যায়, যা কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আমদানির পরিকল্পনায় কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের চিন্তার কিছু নেই। এবার আবাদ ব্যয় কম হয়েছে। দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ প্রতি দাম পেলে তারা লাভবান হবেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।
মন্তব্য করুন