
‘খেতে ইচ্ছা করলেও বাড়তি দামের কারণে পেঁয়াজের কলির ধারে কাছে যেতে পারছি না। আমার বয়সে পেঁয়াজের কলির এমন দাম কোনদিন দেখিনি।’ কথাগুলো বলেন যশোর শহরের কারবালা এলাকার ফারুক হোসেন। মোল্লাপাড়া’র সান্তনা রহমান বলেন, ‘পেঁয়াজের কলি সুস্বাদু একটি সবজি। যে কারণে কয়েকবার কিনেছি। তবে বাড়তি দামের কারণে রেগুলার কিনতে পারছি না।’ বারান্দিপাড়া লিচুতলা’র আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘পুরোটা বছর জুড়ে সবজির অস্বাভাবিক দাম চলছে, খুব একটা কমেনি কখনো। তাই ইচ্ছামতো কিনে খাওয়া সম্ভব হয়নি, হিসাব করে চলতে হয়েছে।’
যশোরের বাজারে পেঁয়াজের কলি বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। পেঁয়াজের ঝাঁজের মতোই পেঁয়াজের কলির ঝাঁজে নাকাল ক্রেতারা। অন্যান্য সবজিও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের কলি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে। সুস্বাদু এ সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। প্রায় মাস খানেক ধরে বাজারে দেখা মিললেও পেঁয়াজের কলি বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। তিন দিন আগে পেঁয়াজের কলি বিক্রি হয়েছে ২৫০টাকা কেজিতে। বাজারে পেঁয়াজের কলির সরবরাহ বাড়েনি, কিছুদিন বাদে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে এমনটাই বলছেন বিক্রেতারা। তবে পেঁয়াজের কলির এমন অস্বাভাবিক দাম ইতিপূর্বে কখনো দেখেননি বলছেন অধিকাংশ ক্রেতারা। অন্যদিকে দাম কিছুটা কমলেও শীতকালীন অধিকাংশ সবজিই এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
তবে কমেছে কাঁচামরিচের দাম। বিক্রি হচ্ছে ৬০থেকে ১০০টাকা কেজিতে। এছাড়া বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন আলু। বিক্রি হচ্ছে ৬০থেকে ৭০টাকা কেজিতে। পুরনো আলু ২৫টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০টাকা কেজিতে। ব্রুকোলি ১০০, টমেটো ৮০ থেকে ৯০টাকা, বিটকপি ১০০, গাজর ৬০ থেকে ১২০, হাইব্রিড মটরশুটি ২০০, মেটে আলু ৮০, মানকচু ৬০, ওলকপি ৪০ থেকে ৫০, বাধাকপি, মুলা ৪০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০টাকা। বেগুন, উচ্ছে, কচুরলতি ৮০, কচুরমুখি, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেড়স, করলা, ঝিঙ্গে, স্কোয়াশ, শসা ৬০টাকা। মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০, কাঁচকলা ৪০, পেঁপে ২৫ থেকে ৪০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
সবজি বিক্রেতা ইউসুফ হোসেন বলেন, বাজারে এক মাস ধরে দেখা গেলেও পেঁয়াজের কলির সরবরাহ কম আছে তাই দাম বেশি। আরেক বিক্রেতা আকতার হোসেন বলেন, তিন আগেও পেঁয়াজের কলি ২৫০থেকে ২৬০টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। সেই তুলনায় দাম এখন কম আছে। অপর সবজি বিক্রেতা মোহম্মদ মহসিন বলেন, সিজনের শুরুতে যেসব সবজি আসে সরবরাহ কম থাকায় সেগুলোর দাম বেশি থাকে। কিছুদিন পরে পেঁয়াজের কলির দাম অর্ধেকেরও নীচে নেমে যাবে।
মন্তব্য করুন