
ভারতের পেঁয়াজের বাজার সাম্প্রতিক সময়ে মন্দার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, যা ভারতীয় পেঁয়াজের প্রধান ক্রেতা ছিল, এখন অনেক কম পেঁয়াজ কিনছে। এর সঙ্গে সৌদি আরবও ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এই দুই দেশের ক্রেতারা পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকেছে, যা নয়াদিল্লির পেঁয়াজ বাজারকে কেড়ে দিয়েছে।
ইকোনমিক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত ভারতের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য বারবার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজেছে।
পেঁয়াজ রপ্তানিতে অসংগতি ভারতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় ভারত মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাত। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারত থেকে খুব কম পেঁয়াজ আমদানি করেছে, যদিও সেখানে পেঁয়াজের দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি আরবও ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনছে না প্রায় এক বছর ধরে।
ভারতের পেঁয়াজ বীজ ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো এখন নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এতে ভারতীয় পেঁয়াজ চাষিদের অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে ভারতের পেঁয়াজ বীজ বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে, যা ক্রেতাদের স্বনির্ভর হতে সহায়তা করছে।
অজিত শাহ নামে এক পেঁয়াজ আমদানিকারক ইকোনোমিক টাইমসকে বলেছেন, “আমাদের পেঁয়াজের কোয়ালিটির জন্য আমরা ভালো দাম আদায় করতে পারতাম। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ছিলাম না। তখন আমাদের ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজেছে। এখন ক্রেতারা আর কোয়ালিটি দেখে না। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি দেশগুলো কত দামে পেঁয়াজ দিচ্ছে, তারা সেটি দেখে।”
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির সরকার।
এরফলে ভারতের পেঁয়াজের ওপর যেসব দেশ নির্ভরশীল ছিল সেসব দেশে দাম বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। এতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে এত ঘনঘন পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এখন স্থানীয় কৃষকদের রক্ষায় বাংলাদেশ ভারত থেকে আর পেঁয়াজ কিনছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। যা তাদের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ ছিল।
সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ কিনেছে। যদিও এরজন্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়।
রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, বারবার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণেই ক্রেতা দেশগুলো ভারতের দিকে নজর না দিয়ে বিকল্প বাজারে চলে গেছে।
ভারতের রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব এখন কমদামের পেঁয়াজের জন্য ইয়েমেন ও ইরানের দিকে ঝুঁকেছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন চীনের পেঁয়াজ না পেলে ভারতের পেঁয়াজ কিনছে।
পাশা প্যাটেল, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য, বলেছেন, আমরা শুধু আমাদের ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি, তারা ভারতীয় পেঁয়াজ বীজ ব্যবহার করে স্বনির্ভর হয়েছে।
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি নীতি ও নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রভাব কমেছে। ক্রেতারা বিকল্প উৎসের দিকে চলে যাওয়ায় ভারতের পেঁয়াজ খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস
মন্তব্য করুন