
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁকে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানির সময় প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, গত ৭ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান এবং এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ধানমন্ডি থানা অথবা ডিবি কার্যালয়ে রাখা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনও করা হয়।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি মার্চ মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে রিমান্ডে রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। ৭২ বছর বয়সী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা আদালতের কাছে অনুরোধ করেন, তাঁকে আরও দু-এক দিন পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হোক।
তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, তাঁর মক্কেল টানা রিমান্ডে আছেন। দুই দিন পর আগামী রোববার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের জিজ্ঞাসাবাদের সময় চিকিৎসক থাকবেন। তাঁর আইনজীবীও থাকবেন। বিরতিতে তাঁর আইনজীবী দেখাও করতে পারবেন। তাঁরা চান, এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদ হয়ে যাক।
ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘ভয়ের কোনো কারণ নেই। কোনো রকম থ্রেট দেখাতে পারবে না। সমস্যা হলে জানাবেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন মামলায় কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমন–সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ছিলেন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পান। জাপার মনোনয়নে নির্বাচন করেন।
মন্তব্য করুন