
সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন এবং বর্তমানে আদালতে হাজির হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গতকাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তার পক্ষে আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নাকচ করে আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল তোফায়েল আহমেদসহ দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ।
২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম এই মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে এই অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে তা উত্তোলন করা হয়।
তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। সম্প্রতি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে আইনজীবী জানান, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি কাউকে চিনতে পারছেন না এবং তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। ফলে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করার মতো অবস্থায় নেই।
এছাড়া, তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয় এবং অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর অনুরোধ জানানো হয়।
তবে দুদকের পক্ষ থেকে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। তাদের যুক্তি ছিল, আসামি পলাতক অবস্থায় এমন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাকে আদালতে উপস্থিত হয়েই আবেদন করতে হবে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তোফায়েল আহমেদের আবেদন নাকচ করেন এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন।
মন্তব্য করুন