
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আদালত এ আদেশ প্রদান করে। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার শুরু হয় গত ২৭ মার্চ। কুষ্টিয়ার হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় এমপি আমির হামজা অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক বদলি হয়ে আসার জন্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।
তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
বিতর্কিত বক্তব্যের পর ১৩ এপ্রিল এমপি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
নোটিশে তাকে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয় এবং জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে অনুরোধ করা হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বা তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করা আইনত দণ্ডনীয় এবং এটি সরকারি চাকুরিজীবীদের মর্যাদাহানি করে।
মামলার আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অসংলগ্ন বক্তব্য কাম্য নয়। সরকার যখন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, তখন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণেই আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন