
যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন বহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ, আইনজীবীদের সাথে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আপিল মামলার আবেদন করা হয়েছে। সোমবার শহরের কাজীপাড়ার আব্দুল আজিজ সড়কের বাসিন্দা মৃত মুন্সী আব্দুল আলীমের ছেলে শরিফুল আলম বাদী হয়ে এ আপিল আবেদন করেন। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন সকালে মামলার আবেদন গ্রহণ করলেও বিকেলে তা খারিজ করে দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার আল-আমিন। এদিকে, মামলার আবেদনের পর আদালত চত্বর থেকে বাইরে আসলে অন্য মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি গত ৪ মার্চ সাধারণ সভা করে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। যা এখনো চলমান। তবে, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে বিচারিক কার্যক্রম সচল রেখেছেন বিচারক রাশেদুর রহমান। মামলার বাদী শরিফুল আলমের একটি মামলা তার আদালতে বিচারাধীন ছিল। আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে গত ৩০ মার্চ শরিফুল আলম সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলায় সময়ের আবেদন জমা দেন। এদিন বিচারক রাশেদুর রহমান মামলার বাদীর সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে বাদীর বক্তব্য একতরফাভাবে গ্রহণ করেন। বিচারক বিবাদীর অনুপস্থিতি উল্লেখ করে সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্র জানায়, আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে নিম্ন আদালতের কার্যক্রমে কোনো আইনগত ভুল বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে রিভিশন মামলা করতে হবে। কিন্তু বাদী করেছেন সরাসরি মামলার আবেদন। যা আইনগত ত্রুটি। রিভিশন মামলা হলো কোনো নিম্ন আদালতের রায় বা আদেশে অসন্তুষ্ট হয়ে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয়া। ফলে এ পেক্ষাপটে রিভিশন আবেদন করতে হবে।
এদিকে, এদিন পুলিশ অন্য মামলায় বাদী শরিফুল আলমকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, অর্থ ঋণ আদালতের একটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকায় শরিফুল আলমকে আটক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ওই মামলায় তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন