
যশোরের চিহ্নিত প্রতারক সেই মাহমুদার বিরুদ্ধে একদিনে যশোর আদালতে মামলা করেছেন আটজন ভুক্তভোগি। পৃথক এসব মামলায় বিচারক কোতোয়ালি থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এরআগে গত ৭ মার্চ ভুক্তভোগিরা একট্টা হয়ে শহরের দড়াটানা এলাকা থেকে মাহমুদাকে আটক করে। পরে তাদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলার বারীনগর বানিয়ালি গ্রামের ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুস সোবহান শনিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় ৮ মার্চ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামি মাহমুদা জামান সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে।
মঙ্গলবার যেসব ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা হলেন—যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাবু গাজীর স্ত্রী দীপু খাতুন, পূর্ব বারান্দী পাড়ার মৃত মুজাহিদ মুন্সীর ছেলে রমজান, সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে শুকুর আলী, হাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিন হোসেন, ঝুমঝুমপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইদুর রহমান রিপন, হামিদপুরের বজলুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান, বাউলিয়া গ্রামের আইনুদ্দীন গাজীর ছেলে ইমরান হোসেন এবং মোকসেদ শেখের ছেলে সোহান হোসেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, দীপু খাতুনকে একটি এনজিওতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই দফায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুকুর আলীর অভিযোগ, তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়।
ইমরান হোসেন তার মামলায় উল্লেখ করেছেন, ঢাকার ‘ডায়মন্ড লাইফ’ নামে একটি এনজিওতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাহমুদা জামান তার কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়েছেন। সোহান হোসেন অভিযোগ করেছেন, ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়েছে।
রমজান তার মামলায় বলেছেন, ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ও তিনটি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়েছে। আল আমিন হোসেন অভিযোগ করেছেন, একইভাবে ৫০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং তিনটি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়।
এছাড়া সাইদুর রহমান রিপন অভিযোগ করেছেন, ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ও তিনটি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, একই প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এনজিও থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মাহমুদা জামান তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও ব্যাংকের ফাঁকা চেক নিয়ে প্রতারণা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন