
যশোর সদরের ছোট বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নৈশ্যপ্রহরী রহিম লস্কার হত্যা মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় নুর ইসলাম আলোর অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মোস্তফা হাবিবুল্লাহ।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, যশোর সদরের কয়েতখালি গ্রামের মহসিন হোসেন ওরফে হোসেন আলীর ছেলে রাসেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও তার ছেলে আনোয়ার হোসেন, আবু বক্কার সিদ্দিকীর ছেলে আশানুর রহমান ওরফে হাসানুজ্জামান, নুর ইসলামের ছেলে হাবিল ওরফে বার্মিজ, মৃত আমিন উদ্দিনের ছেলে মামুন, মৃত আব্দুল আজিজ মোল্যার ছেলে মুছা করিম, শহিদুল ইসলামের ছেলে সুমন, ইছালী গ্রামের মৃত মতলেবের ছেলে রাসেল, ছোট বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আয়ুব আলী মোল্যা এবং হাশিমপুর বাজারপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে মাসুম হোসেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নিহত রহিম লস্কার কৃষিকাজ করতেন এবং আগে কয়েতখালি বাওড়ে নৈশ্যপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। আসামিরা প্রায়ই বাওড় থেকে মাছ চুরি করে নিয়ে যেত। এতে বাধা দিলে তারা রহিম লস্কারকে খুনজখমের হুমকি দিত। ২০২৩ সালে আসামিরা বাওড়ে মাছ চুরি শুরু করে। বর্ষার সময় বাওড়ের পাশের জমিতে মাছ ধরতে যেতেন রহিম লস্কার। গত ৬ জুলাই রাতে রহিম লস্কারসহ গ্রামের কয়েকজন কয়েতখালি বাওড়ের পাশের জমিতে মাছ ধরতে যান। গভীর রাতে বিষয়টি বুঝতে পেরে আসামিরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রহিম লস্কারকে ধরে তারা মারপিট করে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে স্বজনেরা রহিম লস্কারের লাশ শনাক্ত করেন।
৯ জুলাই এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শুকুরন নেছা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উলে¬খ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে উলে¬খ করা হয়েছে, কয়েকজন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্র্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছেন এবং কয়েকজন আটক হয়ে কারাগারে আছেন।
মন্তব্য করুন