
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও সততা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আদালতের অভ্যন্তরে দুর্নীতি দমন ও দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ফেরাতে এই বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাপ্তরিক কার্যক্রমের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচি অনুসারে সকাল ৯টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। বিলম্বে উপস্থিতি বা অনুমতি ছাড়া অফিস ত্যাগকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া দায়িত্বকালীন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ডেস্কে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে এবং কোনো দাপ্তরিক কাজ অসম্পন্ন রাখা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চ্যাপ্টার-XVIA-এর বিধি ৩-এর দফা ৪ অনুযায়ী, আইনজীবী বা আদালতের কর্মচারীসহ কোনো ব্যক্তি আদালত প্রাঙ্গণ বা ভবনের কোনো অংশে মিছিল, স্লোগান, সভা, প্রচার কিংবা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না।
এছাড়া আদালত এলাকায় যেকোনো ধরনের বৈধ বা অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিংয়ের বাইরে গাড়ি বা রিকশা রাখাও নিষিদ্ধ।
অফিস চলাকালীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক পরিধান করতে হবে। দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে অফিস আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে এবং তা দৃশ্যমান অবস্থায় বহন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আদালতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান ও সহকারী রেজিস্ট্রাররা হাজিরা খাতা ও ড্রেস কোড পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ডেপুটি রেজিস্ট্রাররা আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন