মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গুমের বিচার থেকে দৃষ্টি সরাতে পরিকল্পিত ‘হাইপ’ তৈরির অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের

ঢাকা অফিস
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২৯ পিএম
গুমের বিচার থেকে দৃষ্টি সরাতে পরিকল্পিত ‘হাইপ’ তৈরির অভিযোগ চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের

গুমের মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে পরিকল্পিতভাবে ‘হাইপ’ তৈরি করা হচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি আদালতে সূচনা বক্তব্যের তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় প্রসঙ্গেই তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের পরিবেশ ও শিষ্টাচার রক্ষা করা সকল আইনজীবীর দায়িত্ব। অথচ আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী নিজেকে ‘সিনিয়র আইনজীবী’ হিসেবে দাবি করেন। রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি বিশেষ মর্যাদা দাবি করে আদালতের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার–১৯৭২ অনুযায়ী, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদা ধারণ করেন। আইনের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল বা চিফ প্রসিকিউটর আদালতে দাঁড়িয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করলে অন্য কোনো আইনজীবী—সিনিয়র বা জুনিয়র—তৎক্ষণাৎ কথা বলতে পারেন না। কিন্তু আসামিপক্ষ সেই ন্যূনতম শিষ্টাচারও রক্ষা করেনি।

তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে একটি কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া থেকে দৃষ্টি সরানো।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে শত শত মানুষকে গুমের পর হত্যা করে নদী, খাল-বিল, বনাঞ্চল ও সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এত গুরুতর অপরাধের বিচার চলাকালে আসামিপক্ষ বারবার নিজেদের ‘সেনা পরিচয়’ তুলে ধরে মামলাকে সংবেদনশীল করার চেষ্টা করছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অভিযুক্তরা যখন এসব অপরাধ করেছেন, তখন তারা সেনাবাহিনীর অধীনে ছিলেন না। তারা সেনাবাহিনীর পোশাকেও ছিলেন না। তারা ছিলেন পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য। সুতরাং সেনা পরিচয় ব্যবহার করে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা একটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত প্রচেষ্টা।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টিএফআই সেলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সূচনা বক্তব্যের তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি আদালতে বাদানুবাদের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

X