
টানা বৃষ্টিতে ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৩০টিরও বেশি গ্রাম আংশিকভাবে প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবদহের সুইচগেট সময়মতো না খোলা এবং নদীপথে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবদহ অঞ্চলের পানি মণিরামপুর উপজেলার মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরিনদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীগুলো খনন করা হলেও পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশন হচ্ছে। পাশাপাশি সুইচগেটগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
চলতি জুলাই মাসে দুই দফা ভারী বৃষ্টির পর ভবদহ এলাকার মণিরামপুর অংশের অন্তত ১৫টি বিল প্লাবিত হয়েছে। বিলের পানি উপচে ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাটি, খানপুর, দূর্বাডাঙ্গা, কুলটিয়া, নেহালপুর ও মনোহরপুর ইউনিয়নের ৩০টিরও বেশি গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, রাস্তা ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
শনিবার সকালে সরেজমিনে মহিষদিয়া গ্রামের কলেজছাত্র জয় মণ্ডল বলেন, "বাড়ির উঠান ও যাতায়াতের পথ পানিতে ডুবে গেছে। চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি। আর একটু পানি বাড়লেই ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়বে। তখন রাস্তার ওপর আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।"
আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজিত কুমার বলেন, "বাড়ির উঠানে পানি উঠে গেছে। গরু দুটি রাস্তার পাশে অস্থায়ী টংঘরে রাখতে হয়েছে। আর এক দফা ভারী বৃষ্টি হলে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হতে পারে।"
বাজেকুলটিয়া গ্রামের গৃহবধূ বর্ণি শেখা বলেন, "আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক আগেই বাড়িতে পানি উঠেছে। প্রতিদিন পানির চাপ বাড়ছে। টিউবওয়েল ও বাথরুমও পানির নিচে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। খুব কষ্টে দিন কাটছে।"
ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের সুবেন বিশ্বাস বলেন, "উঠানে হাঁটুসমান পানি। সেখানে মাছ ধরার চার পেতেছি। যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো বানাতে হয়েছে।"
সুজাতপুর গ্রামের সুভাষ বিশ্বাস বলেন, "জলের মধ্যে খুবই দুর্বিষহ অবস্থায় আছি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছি।"
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, বৃষ্টির পানি জমে ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, "সুইচগেটগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া এবং ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করা না হলে এই জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।"
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যার্নাজী বলেন, "আজ ভবদহ এলাকার তিনটি সুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে প্লাবিত এলাকার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার আশা করছি।"
মন্তব্য করুন