
দীর্ঘ ২১ বছরের প্রতীক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং মালয়েশিয়ার কারাগারে ১০ বছরের কঠিন বন্দিজীবন শেষে অবশেষে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা রতন মৃধা। শনিবার বিকেলে নিজ গ্রাম আন্ধারমানিকে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের আবেগঘন মিলনমেলায় পুরো এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ২১ বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমান রতন মৃধা। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে থাকে। একসময় স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো আর কোনোদিন তাকে ফিরে পাওয়া যাবে না।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে পরিবার জানতে পারে, রতন মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে পরিস্থিতির শিকার হয়ে বা অপরাধ না করেও তাকে দীর্ঘ ১০ বছর কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এ সময় পরিবার আইনি ও প্রশাসনিকভাবে নানা চেষ্টা চালিয়ে যায়।
অবশেষে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শনিবার তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে নিজ বাড়ি কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে ফিরে আসেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। রতনের বাড়ি ফেরার খবরে পুরো আন্ধারমানিক গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রতনকে ফিরে পাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন